আগরতলা, ৫ নভেম্বর: সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জাতীয় স্তরের বৈঠকে তুলে ধরল ত্রিপুরা। রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১০০ শতাংশ ডিজিটাল অনবোর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কাগজনির্ভর পরিষেবা বন্ধ করে সম্পূর্ণ পেপারলেস ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় ৫ ও ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB PM-JAY) এবং আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (ABDM)-এর জাতীয় পর্যালোচনা বৈঠক। জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (NHA) উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে।
বৈঠকে ত্রিপুরার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সিইও তথা আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের স্টেট মিশন ডিরেক্টর জি শরথ নায়েকও বক্তব্য রাখেন। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের স্টেট হেলথ এজেন্সির প্রধান নির্বাহী আধিকারিক ও সচিব শারদ কুমার দ্বিবেদী, জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব কিরণ গোপাল ভাস্কা-সহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।
সম্মেলনে ত্রিপুরার মডেল সিভিল হাসপাতালের পরিষেবা পরিচালনা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও হাসপাতাল পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ওই উপস্থাপনা উপস্থিত প্রতিনিধিদের প্রশংসা পেয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে জানান, রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (IHMIS) আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ব্যবস্থায় ১০০ শতাংশ অন্তর্ভুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও একই ডিজিটাল পরিকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর নাম নথিভুক্তি, টোকেন সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ, ভর্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, প্রেসক্রিপশন, ওষুধ সরবরাহ এবং পরীক্ষাগারের পরিষেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
আগরতলার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সিভিল হাসপাতালকে এই উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালটিতে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপ ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
ত্রিপুরার ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সিইও-সহ বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজ্যের আধিকারিক ও প্রতিনিধিদের রাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার এই পরিবর্তনের পিছনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার নির্দেশনা ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
সূত্র: ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি।









