ধর্মনগর: উত্তর ত্রিপুরার দশদা ব্লকে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ১২ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। গত ২ নভেম্বর ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনের (CLF) আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর কয়েকজনের পেটের সমস্যা ও পরিপাকতন্ত্রজনিত উপসর্গ দেখা দেয়। ঘটনার তদন্তে নেমে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর প্রায় ৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬৭ প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে প্রায় ৩৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অসুস্থ হয়ে দশদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই ঘটনায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উত্তর জেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা ৩ ও ৪ নভেম্বর তদন্ত চালান। দশদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসারের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি, কর্মসূচিতে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা অসুস্থ হয়েছিলেন, তাঁরা অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে সন্ধ্যার আগে অথবা পরে খাবার খেয়েছিলেন। খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। ২ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রথম অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
তবে কর্মসূচিতে পরিবেশিত খাবারের কোনও সংরক্ষিত নমুনা পরীক্ষার জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অসুস্থতার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত খাবারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরও এখনও ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি।
তদন্তের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি খাবারের দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও পরিদর্শন চালানো হয়। সেই অভিযানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ৬৭ প্যাকেট খাদ্যপণ্য উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের গুণমান পরীক্ষা, নিয়মিত বাজার পরিদর্শন এবং বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ চালু থাকবে বলে জানিয়েছে দপ্তর।
সূত্র: ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য।









