রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মূল লক্ষ্যই হলো সাধারণ মানুষকে পরিষেবা প্রদান সহজ ও দ্রুততর করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সাথে সাথে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই হলো বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য পূরণে সরকার, সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিগণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে একটি দল হিসেবে কাজ করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। আজ আমতলির বৈষ্ণবটিলায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি নামাঙ্কিত কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করে এই অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩৫০ আসন বিশিষ্ট এই কমিউনিটি হল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনায় বলেন, রাজ্য সরকার নতুন, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়তে বদ্ধপরিকর। রাজ্য সরকার মানুষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবধারায় চালিত হয়ে রাজ্য সরকারও রাজ্যবাসীর কল্যাণে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাওয়াকেই মূলমন্ত্র হিসেবে ধরে নিয়ে এগিয়ে চলছে। বর্তমান সরকারের জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার ভাবধারায় বিশ্বাসী। যার ফলে রাজ্যের উন্নয়ন কর্মকান্ড সমগ্র দেশজুড়ে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে সক্ষম হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলগুলিকে নেতিবাচক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতি করার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, ২০১৪ সালের পূর্বে ড. মুখার্জির কথা ভারতবাসীকে জানতে দেওয়া হয়নি। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি হলেন দেশের ঐক্য, অখন্ডতা ও দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক। তিনি নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে পেছনে ফেলে দেশের স্বাধীনতা ও দেশবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করেছেন। দেশের বরেণ্য সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, বিবেকানন্দ, ভগৎ সিংদের নামে কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নামকরণের উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এদের ভুলে না যায়। তাদের কর্ম ও দর্শনের প্রভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সমূহ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরের পরিত্যক্ত জলাশয়গুলি পুনরুদ্ধার করে সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে। আগরতলায় স্মার্ট সিটি মিশনের ৬৫টি প্রজেক্ট রূপায়ণে প্রায় ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। আগরতলা পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য সর্বসুবিধাযুক্ত নতুন ওয়ার্ড অফিসঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ২-এর পাতায়
হাওড়া রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তাছাড়া কভার ড্রেন তৈরি, বিভিন্ন রাস্তার পুনঃসংস্কার, নতুন স্ট্রিট লাইট বসানো সহ শহরের সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানীয়জল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের বাড়িতে এখনও পানীয়জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি তারাও অচিরেই এই সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় রাজ্যের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৭৬ হাজার ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয়দের এই নবনির্মিত কমিউনিটি হলটি রক্ষণাবেক্ষণে নিজেদের উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা শহরকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে শহরে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নতিকরণে পুরনিগম কাজ করছে বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন পরিচালনার মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদান করাই হলো এই সরকারের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ. এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ৪৯ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর হরিসাধন দেবনাথ। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মিনা রাণী সরকার, ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, পুরনিগমের দক্ষিণ জোনের চেয়ারম্যান অভিজিৎ মল্লিক প্রমুখ।
ICA








