Home / Tripura / ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণায় জোর রাজ্যপালের

ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণায় জোর রাজ্যপালের

১৩ অক্টোবর, আগরতলা: রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি লাল্লু বলেন, আমাদের এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্র এবং দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়। আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতির যৌথ উদ্যোগে দুদিনব্যাপী ত্রিপুরা এডুকেশন কনক্লেভ ২০২৬-এর উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরার জন্য আজ একটি গর্বের মুহূর্ত। গত বছরের জুন মাসে ৯৫.৬ শতাংশ সাক্ষরতার হার নিয়ে আমাদের রাজ্য ভারতের তৃতীয় সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই সাফল্য জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তবে সাক্ষরতা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং উন্নয়নের প্রথম ধাপ। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে প্রতিটি মানুষকে আর্থিক সাক্ষরতা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং আজীবন শেখার সক্ষমতার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়িত করা।

এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বা এনইপি ২০২০ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়; শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটানোও এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

নরেন্দ্র মোদির ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ কর্মসূচি এবং ‘যুব সঙ্গম’-এর মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং জাতীয় সংহতির বন্ধনকে শক্তিশালী করছে। ‘ভাষা সঙ্গম’-এর মতো উদ্যোগও আমাদের ভাষাগত বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে তখনই, যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে হবে, আধুনিক দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং শিক্ষার সঙ্গে ভারতীয় মূল্যবোধের সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামনে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমাদের জীববৈচিত্র্য, কৃষিসম্পদ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। আমাদের এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্র এবং দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়।

ত্রিপুরা সাক্ষরতার ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এবার শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, চিন্তাশীল মানুষ তৈরি করবে; বিদ্যালয় শুধু নম্বর নয়, চরিত্র গঠন করবে; এবং কোনো শিক্ষার্থীই সুযোগের অভাবে পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি সকলের কাছে আহ্বান জানান, শিক্ষাকে প্রতিটি মানুষের জীবন পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত করতে এবং একটি আত্মনির্ভর, সমৃদ্ধ ও বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প গ্রহণ করতে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিভাস দেব, বিদ্যা ভারতীর পূর্বোত্তরের ক্ষেত্র সম্পাদক ড. পবন তিওয়ারি প্রমুখ।

SHABD

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *