৩১ অক্টোবর, আগরতলা: প্রদেশ বিজেপির উদ্যোগে আজ আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা বন্ধ করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক মিছিল ও সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অশান্তি, হিংসা কিংবা গায়ের জোরে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কোনওভাবেই গণতন্ত্রের পরিচয় হতে পারে না। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপির কর্মী ও দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেককে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বিরোধী দলগুলির ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সিপিআই(এম), কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ তোলার নামে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করা এবং অযোগ্যদের নাম যাচাই করা হয় বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কংগ্রেস, সিপিআই(এম) ও তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাংসদ তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগোলেও বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে অশান্তি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই জমায়েত প্রমাণ করছে দেশের যুবসমাজ থেকে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি, সংবিধান এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শের পাশে রয়েছেন।
দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায় বলেন, কংগ্রেস ও সিপিএম সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে। ক্ষমতায় ফেরার জন্য তাদের প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। ত্রিপুরায় সিপিএমের ২৫ বছরের শাসন এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উভয় দলই মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, সুশান্ত চৌধুরী, টিংকু রায়, রতনলাল নাথ, সুধাংশু দাস, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, মেয়র দীপক মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায় সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।







